প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 13, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 11, 2026 ইং
বিশ্ব মা দিবসে দিনাজপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের রচনা প্রতিযোগিতা

মা—একটি শব্দ, যার ভেতর জড়িয়ে থাকে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর অনন্ত ত্যাগের গল্প। বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে মায়ের মমতার বন্ধনকে আরও গভীরভাবে অনুভব করতে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে আয়োজন করা হয় হৃদয়ছোঁয়া এক রচনা প্রতিযোগিতার।
আজ রবিবার (১০ মে) উপজেলা শাখার উদ্যোগে সাতনালা দ্বী-মূখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘আমার মা’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
এতে অংশ নেয় ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী । ৩০০ শব্দের এই রচনায় শিক্ষার্থীরা তুলে ধরে মায়ের প্রতি তাদের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও আত্মত্যাগের অনন্য ঘটনা।
প্রতিযোগিতার পরিবেশ ছিল আবেগঘন ও প্রাণবন্ত। কেউ লিখেছে মায়ের কষ্টের কথা, কেউবা মায়ের স্বপ্ন আর সংগ্রামের গল্প। ছোট ছোট লেখনীর ভেতর ফুটে ওঠে পারিবারিক মূল্যবোধ, মানবিক শিক্ষা ও সন্তানের হৃদয়ে মায়ের অমূল্য অবস্থান। অনেক শিক্ষার্থীর লেখায় মায়ের প্রতি গভীর অনুভূতির প্রকাশ উপস্থিত অতিথিদেরও আবেগাপ্লুত করে তোলে।
অনুষ্ঠানে রিয়াজুল মদিনা ইসলামিক স্কুলের পরিচালক মো. জুবায়ের রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘মা একজন সন্তানের প্রথম শিক্ষক। মায়ের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা থেকেই একজন মানুষ মানবিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।”
বিশেষ অতিথি ও রংরেখা একাডেমির পরিচালক এ.এম জে রফিক বলেন, “মাকে নিয়ে লেখালেখি ও সৃজনশীল চর্চা শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের চিন্তা ও অনুভূতির জগৎকে সমৃদ্ধ করে।”
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাতনালা দ্বী-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রী আশুতোষ রায়, সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, নিলীমা রায়, পারভীন আক্তারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন শ্রেণিতে বিজয়ীদের মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে প্রথম সারাহ খাতুন সুজানা ও দ্বিতীয় মায়মুনা। সপ্তম শ্রেণিতে প্রথম হন ফারিহা ও দ্বিতীয় সাইফুল্লাহ। অষ্টম শ্রেণিতে প্রথম সোহানা ও দ্বিতীয় আতিয়া ইবনাত। নবম শ্রেণিতে প্রথম আলিফ নূর ও দ্বিতীয় ইশরাত জাহান আলিফ। অন্যদিকে দশম শ্রেণিতে প্রথম জয় রাম রায় ও দ্বিতীয় সুমাইয়া আক্তার।
বসুন্ধরা শুভসংঘ চিরিরবন্দর উপজেলা শাখার সভাপতি মোস্তাকিম আল হাসনা বলেন, “মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও মানবিক বিকাশে এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।”
সাধারণ সম্পাদক মো. শাহারিয়া সরকার বলেন, “মা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। বর্তমান প্রজন্মের মাঝে পারিবারিক বন্ধন, সম্মানবোধ ও মানবিক শিক্ষা ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
আয়োজকরা জানান, শুধু প্রতিযোগিতা নয়—নানা ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বইমুখী, সৃজনশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। বিশ্ব মা দিবসে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন তাদের মানসিক প্রশান্তি দিয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকার NNTV